ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Dhaka) একাডেমিক রিপোর্ট রাইটিং ফরম্যাট সাধারণত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (যেমন APA, MLA বা Harvard style) অনুসরণ করে। তবে বিভাগভেদে কিছু ভিন্নতা থাকলেও একটি স্ট্যান্ডার্ড কাঠামো প্রায় সব বিভাগেই গৃহীত হয়।
নিচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট, টার্ম পেপার বা থিসিস রিপোর্টের জন্য একটি বিস্তারিত গাইডলাইন উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো।
১. রিপোর্টের মৌলিক কাঠামো (Basic Structure)
একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক রিপোর্ট সাধারণত নিচের অংশগুলো নিয়ে গঠিত হয়:
* Title Page (কভার পেজ)
* Table of Contents (সূচিপত্র)
* Abstract / Executive Summary (সারসংক্ষেপ)
* Introduction (ভূমিকা)
* Literature Review (সাহিত্য পর্যালোচনা)
* Methodology (গবেষণা পদ্ধতি)
* Results and Discussion (ফলাফল ও আলোচনা)
* Conclusion and Recommendations (উপসংহার ও সুপারিশ)
* References / Bibliography (তথ্যসূত্র)
* Appendices (পরিশিষ্ট - যদি থাকে)
২. কভার পেজ বা টাইটেল পেজ (Title Page)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কভার পেজে সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রদান করে।
উদাহরণ:
উপরে বড় অক্ষরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এবং লোগো থাকে। এরপর রিপোর্টের শিরোনাম। যেমন:
"Impact of Microfinance on Rural Poverty: A Case Study of Gazipur District"
এর নিচে বাম পাশে বা মাঝখানে থাকে শিক্ষার্থীর তথ্য:
* Submitted By: (শিক্ষার্থীর নাম, রোল নম্বর, শিক্ষাবর্ষ, বিভাগ)
* Submitted To: (শিক্ষকের নাম, পদবি, বিভাগ)
* Date of Submission: (জমা দেওয়ার তারিখ)
৩. সারসংক্ষেপ (Abstract)
এটি পুরো রিপোর্টের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ (১৫০-২৫০ শব্দ)। এখানে আপনি কী বিষয়ে গবেষণা করেছেন, কীভাবে করেছেন এবং মূল ফলাফল কী—তা সংক্ষেপে লিখতে হয়।
টিপস: এখানে কোনো নতুন তথ্য বা রেফারেন্স দেবেন না। এটি রিপোর্টের একেবারে শেষে লেখা ভালো, যাতে পুরো কাজের সারমর্ম উঠে আসে।
৪. ভূমিকা (Introduction)
ভূমিকা অংশে বিষয়টির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে হয়। এটি সাধারণত তিনটি অংশে বিভক্ত:
* Background: বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ।
* Problem Statement: আপনি কোন সমস্যাটির সমাধান বা বিশ্লেষণ করতে চাচ্ছেন।
* Objectives: রিপোর্টের মূল উদ্দেশ্যগুলো কী কী।
উদাহরণ বাক্য:
The primary objective of this report is to analyze the effectiveness of digital marketing in the banking sector of Bangladesh.
৫. লিটারেচার রিভিউ (Literature Review)
এই অংশে আপনার বিষয়ের ওপর আগে কী কী কাজ হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে হয়। এখানে প্রচুর সাইটেশন (Citation) বা তথ্যসূত্র ব্যবহার করতে হয়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: কোনো লেখকের কথা সরাসরি কপি না করে নিজের ভাষায় প্যারামফ্রেজ (Paraphrase) করে লিখুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ বিভাগ প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism) বা লেখা চুরির বিষয়ে খুব কঠোর।
৬. মেথডোলজি বা পদ্ধতি (Methodology)
আপনি ডেটা বা তথ্য কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন এবং কীভাবে তা বিশ্লেষণ করেছেন, তা এখানে লিখতে হয়।
* Data Source: প্রাইমারি (ইন্টারভিউ, সার্ভে) নাকি সেকেন্ডারি (বই, জার্নাল)।
* Sample Size: কতজনের ওপর জরিপ করা হয়েছে।
* Tools: কোন সফটওয়্যার (যেমন SPSS, Excel) ব্যবহার করেছেন।
৭. ফলাফল ও আলোচনা (Results and Discussion)
রিপোর্টের সবচেয়ে বড় অংশ এটি। এখানে প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করতে হয়।
* আপনার সংগৃহীত তথ্যের মাধ্যমে কী প্রমাণিত হলো?
* তথ্যগুলো আপনার উদ্দেশ্যের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
* কোনো বিশেষ ট্রেন্ড বা পরিবর্তন দেখা গেছে কি না?
মনে রাখবেন: এই অংশে তথ্যগুলো বর্ণনা করার সময় Verb এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যেমন: "The study reveals that..." অথবা "The findings suggest..."।
৮. উপসংহার ও সুপারিশ (Conclusion and Recommendations)
উপসংহারে আপনি পুরো আলোচনার একটি ইতি টানবেন। এরপর আপনার গবেষণার ভিত্তিতে কিছু পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান করবেন।
উদাহরণ:
Based on the findings, it is recommended that the government should increase the budget for primary education in rural areas.
৯. রেফারেন্সিং (Referencing)
রেফারেন্সিং হলো আপনি কার কার লেখা থেকে তথ্য নিয়েছেন তার তালিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত APA (American Psychological Association) স্টাইল বেশি ব্যবহৃত হয়।
APA ফরম্যাটের উদাহরণ:
* বইয়ের ক্ষেত্রে: Author’s Surname, Initial. (Year). Title of the book. Publisher.
* উদাহরণ: Khan, A. (2020). Economic Growth of Bangladesh. Dhaka University Press.
১০. ফরম্যাটিং গাইডলাইন (Technical Specifications)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় নিচের ফরম্যাটটি অনুসরণ করা আদর্শ:
* Font: Times New Roman
* Font Size: শিরোনামের জন্য 14 বা 16; বডি টেক্সটের জন্য 12।
* Line Spacing: 1.5 (দেড় গুণ দূরত্ব)।
* Alignment: Justified (বাম ও ডান পাশ সমান)।
* Margins: সব পাশে ১ ইঞ্চি (১") জায়গা রাখা।
১১. গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ
১. ভাষা: একাডেমিক ভাষা ব্যবহার করুন। 'I think' বা 'In my opinion' এর পরিবর্তে 'It is observed that' বা 'Evidence suggests that' ব্যবহার করা ভালো।
২. প্লেজিয়ারিজম চেক: নিজের লেখা নিজে লিখুন। অন্য কারো লেখা হুবহু কপি করলে রিপোর্ট বাতিল হতে পারে।
৩. প্রুফরিডিং: জমা দেওয়ার আগে বানান এবং গ্রামার চেক করে নিন।
৪. সাইটেশন: লেখার মাঝখানে কোনো তথ্য দিলে অবশ্যই ব্র্যাকেটে লেখকের নাম এবং সাল উল্লেখ করুন। যেমন: (Rahman, 2022)।
এভাবে গুছিয়ে লিখলে আপনার রিপোর্টটি প্রফেশনাল হবে এবং ভালো মার্কস পেতে সাহায্য করবে।
নিচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট, টার্ম পেপার বা থিসিস রিপোর্টের জন্য একটি বিস্তারিত গাইডলাইন উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো।
১. রিপোর্টের মৌলিক কাঠামো (Basic Structure)
একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক রিপোর্ট সাধারণত নিচের অংশগুলো নিয়ে গঠিত হয়:
* Title Page (কভার পেজ)
* Table of Contents (সূচিপত্র)
* Abstract / Executive Summary (সারসংক্ষেপ)
* Introduction (ভূমিকা)
* Literature Review (সাহিত্য পর্যালোচনা)
* Methodology (গবেষণা পদ্ধতি)
* Results and Discussion (ফলাফল ও আলোচনা)
* Conclusion and Recommendations (উপসংহার ও সুপারিশ)
* References / Bibliography (তথ্যসূত্র)
* Appendices (পরিশিষ্ট - যদি থাকে)
২. কভার পেজ বা টাইটেল পেজ (Title Page)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কভার পেজে সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রদান করে।
উদাহরণ:
উপরে বড় অক্ষরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এবং লোগো থাকে। এরপর রিপোর্টের শিরোনাম। যেমন:
"Impact of Microfinance on Rural Poverty: A Case Study of Gazipur District"
এর নিচে বাম পাশে বা মাঝখানে থাকে শিক্ষার্থীর তথ্য:
* Submitted By: (শিক্ষার্থীর নাম, রোল নম্বর, শিক্ষাবর্ষ, বিভাগ)
* Submitted To: (শিক্ষকের নাম, পদবি, বিভাগ)
* Date of Submission: (জমা দেওয়ার তারিখ)
৩. সারসংক্ষেপ (Abstract)
এটি পুরো রিপোর্টের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ (১৫০-২৫০ শব্দ)। এখানে আপনি কী বিষয়ে গবেষণা করেছেন, কীভাবে করেছেন এবং মূল ফলাফল কী—তা সংক্ষেপে লিখতে হয়।
টিপস: এখানে কোনো নতুন তথ্য বা রেফারেন্স দেবেন না। এটি রিপোর্টের একেবারে শেষে লেখা ভালো, যাতে পুরো কাজের সারমর্ম উঠে আসে।
৪. ভূমিকা (Introduction)
ভূমিকা অংশে বিষয়টির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে হয়। এটি সাধারণত তিনটি অংশে বিভক্ত:
* Background: বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ।
* Problem Statement: আপনি কোন সমস্যাটির সমাধান বা বিশ্লেষণ করতে চাচ্ছেন।
* Objectives: রিপোর্টের মূল উদ্দেশ্যগুলো কী কী।
উদাহরণ বাক্য:
The primary objective of this report is to analyze the effectiveness of digital marketing in the banking sector of Bangladesh.
৫. লিটারেচার রিভিউ (Literature Review)
এই অংশে আপনার বিষয়ের ওপর আগে কী কী কাজ হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে হয়। এখানে প্রচুর সাইটেশন (Citation) বা তথ্যসূত্র ব্যবহার করতে হয়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: কোনো লেখকের কথা সরাসরি কপি না করে নিজের ভাষায় প্যারামফ্রেজ (Paraphrase) করে লিখুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ বিভাগ প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism) বা লেখা চুরির বিষয়ে খুব কঠোর।
৬. মেথডোলজি বা পদ্ধতি (Methodology)
আপনি ডেটা বা তথ্য কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন এবং কীভাবে তা বিশ্লেষণ করেছেন, তা এখানে লিখতে হয়।
* Data Source: প্রাইমারি (ইন্টারভিউ, সার্ভে) নাকি সেকেন্ডারি (বই, জার্নাল)।
* Sample Size: কতজনের ওপর জরিপ করা হয়েছে।
* Tools: কোন সফটওয়্যার (যেমন SPSS, Excel) ব্যবহার করেছেন।
৭. ফলাফল ও আলোচনা (Results and Discussion)
রিপোর্টের সবচেয়ে বড় অংশ এটি। এখানে প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করতে হয়।
* আপনার সংগৃহীত তথ্যের মাধ্যমে কী প্রমাণিত হলো?
* তথ্যগুলো আপনার উদ্দেশ্যের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
* কোনো বিশেষ ট্রেন্ড বা পরিবর্তন দেখা গেছে কি না?
মনে রাখবেন: এই অংশে তথ্যগুলো বর্ণনা করার সময় Verb এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যেমন: "The study reveals that..." অথবা "The findings suggest..."।
৮. উপসংহার ও সুপারিশ (Conclusion and Recommendations)
উপসংহারে আপনি পুরো আলোচনার একটি ইতি টানবেন। এরপর আপনার গবেষণার ভিত্তিতে কিছু পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান করবেন।
উদাহরণ:
Based on the findings, it is recommended that the government should increase the budget for primary education in rural areas.
৯. রেফারেন্সিং (Referencing)
রেফারেন্সিং হলো আপনি কার কার লেখা থেকে তথ্য নিয়েছেন তার তালিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত APA (American Psychological Association) স্টাইল বেশি ব্যবহৃত হয়।
APA ফরম্যাটের উদাহরণ:
* বইয়ের ক্ষেত্রে: Author’s Surname, Initial. (Year). Title of the book. Publisher.
* উদাহরণ: Khan, A. (2020). Economic Growth of Bangladesh. Dhaka University Press.
১০. ফরম্যাটিং গাইডলাইন (Technical Specifications)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় নিচের ফরম্যাটটি অনুসরণ করা আদর্শ:
* Font: Times New Roman
* Font Size: শিরোনামের জন্য 14 বা 16; বডি টেক্সটের জন্য 12।
* Line Spacing: 1.5 (দেড় গুণ দূরত্ব)।
* Alignment: Justified (বাম ও ডান পাশ সমান)।
* Margins: সব পাশে ১ ইঞ্চি (১") জায়গা রাখা।
১১. গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ
১. ভাষা: একাডেমিক ভাষা ব্যবহার করুন। 'I think' বা 'In my opinion' এর পরিবর্তে 'It is observed that' বা 'Evidence suggests that' ব্যবহার করা ভালো।
২. প্লেজিয়ারিজম চেক: নিজের লেখা নিজে লিখুন। অন্য কারো লেখা হুবহু কপি করলে রিপোর্ট বাতিল হতে পারে।
৩. প্রুফরিডিং: জমা দেওয়ার আগে বানান এবং গ্রামার চেক করে নিন।
৪. সাইটেশন: লেখার মাঝখানে কোনো তথ্য দিলে অবশ্যই ব্র্যাকেটে লেখকের নাম এবং সাল উল্লেখ করুন। যেমন: (Rahman, 2022)।
এভাবে গুছিয়ে লিখলে আপনার রিপোর্টটি প্রফেশনাল হবে এবং ভালো মার্কস পেতে সাহায্য করবে।
Comments
Post a Comment